সংসারের মাসিক বাজেট: আগে প্রয়োজন, পরে বাকি সব
সংক্ষেপে: মাসের শুরুতে আয়টা লিখে ফেলুন। তারপর সবার আগে প্রয়োজনীয় খরচ আলাদা করুন: খাবার, বাসাভাড়া, বিদ্যুৎ-গ্যাস-পানি, যাতায়াত, ওষুধ আর ছেলেমেয়ের পড়াশোনা। এরপর ঋণের কিস্তি, তারপর সঞ্চয়, আর যা থাকে তা অন্যান্য খরচের জন্য। আয় অনিয়মিত হলে কম আয়ের মাস ধরে হিসাব করুন।
ধাপে ধাপে বাজেট
- আয় লিখুন। বেতন, ব্যবসা বা দিনমজুরির আয়, বিদেশ থেকে আসা টাকা, সব মিলিয়ে মাসে কত আসে।
- প্রয়োজনীয় খরচ আগে। চাল-ডাল-বাজার, বাসাভাড়া, বিদ্যুৎ-গ্যাস-পানির বিল, যাতায়াত, ওষুধ আর স্কুলের বেতন। এই টাকা মাসের শুরুতেই আলাদা করে রাখুন।
- ঋণের কিস্তি। কিস্তি দেরিতে দিলে জরিমানা হতে পারে, তাই এটাও আগে।
- সঞ্চয়। অল্প হলেও প্রতি মাসে কিছু রাখুন। মাস শেষে যা বাঁচে তা জমানোর চেয়ে শুরুতেই সরিয়ে রাখা সহজ।
- বাকি খরচ। কাপড়চোপড়, অনুষ্ঠান, বেড়ানো, মোবাইল রিচার্জের বাড়তি খরচ।
আমাদের মাসিক বাজেট টুল-এ সংখ্যাগুলো বসালে মাস শেষে কত থাকে আর প্রয়োজনীয় খরচে আয়ের কত ভাগ যায়, তা সঙ্গে সঙ্গে দেখা যায়।
হিসাব রাখুন
একটা খাতায় বা মোবাইলের নোটে প্রতিদিনের খরচ লিখুন। এক মাস লিখলেই বোঝা যায় টাকা আসলে কোথায় যায়। ছোট ছোট খরচ, যেমন চা-নাশতা বা রিকশাভাড়া, মাস শেষে অনেক বড় হয়ে দাঁড়ায়।
আয় যদি অনিয়মিত হয়
কৃষিকাজ, দিনমজুরি বা ছোট ব্যবসায় সব মাসে সমান আয় হয় না। এমন হলে সবচেয়ে কম আয়ের মাস ধরে বাজেট করুন। বেশি আয়ের মাসে বাড়তি টাকাটা খরচ না করে জমিয়ে রাখুন, যাতে কম আয়ের মাসে কাজে লাগে।
বিপদের দিনের তহবিল
অসুখ, ফসলের ক্ষতি বা কাজ হারানোর মতো বিপদ হঠাৎ আসে। তখন চড়া সুদে ধার করতে না হলে আগে থেকে কিছু টাকা আলাদা রাখা দরকার। প্রথমে একটা ছোট লক্ষ্য ঠিক করুন, যেমন এক মাসের প্রয়োজনীয় খরচ। ধীরে ধীরে তিন মাসের খরচ জমানোর চেষ্টা করুন। এই টাকা এমন জায়গায় রাখুন যেখান থেকে দরকারের সময় সহজে তোলা যায়, যেমন ব্যাংকের সঞ্চয়ী হিসাবে।
খরচ কমানোর কয়েকটি উপায়
- বাজারে যাওয়ার আগে তালিকা করুন, আর মাসের চাল-ডাল-তেল একসঙ্গে কিনলে দাম কম পড়ে কি না দেখুন।
- বিদ্যুৎ আর গ্যাসের অপচয় কমান, বিলটা মিলিয়ে দেখুন।
- মোবাইল ব্যাংকিংয়ে ক্যাশ-আউট করার আগে ভাবুন, সরাসরি বিল বা কেনাকাটার টাকা দিলে খরচ কম হতে পারে।
- অনুষ্ঠান বা ঈদের খরচের জন্য আগে থেকে মাসে মাসে অল্প করে জমান।
কাজের টুল
- মাসিক বাজেট: মাস শেষে কত থাকে আর প্রয়োজনীয় খরচে আয়ের কত ভাগ যায়।
- সঞ্চয় ও ডিপিএস হিসাব: মাসে মাসে জমালে মেয়াদ শেষে আনুমানিক কত হবে।
সাধারণ তথ্য, আর্থিক পরামর্শ নয়। ফি, সুদ বা মুনাফার হার আর নিয়মকানুন প্রায়ই বদলায় এবং আপনার অবস্থার ওপর নির্ভর করে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ব্যাংক, প্রতিষ্ঠান বা অভিজ্ঞ কারও কাছ থেকে আজকের নিয়ম জেনে নিন।
তথ্যসূত্র
- বাংলাদেশ ব্যাংক: আর্থিক সাক্ষরতা (Financial Literacy)
- বাংলাদেশ ব্যাংক: অফিশিয়াল ওয়েবসাইট