ঋণ নেওয়ার আগে: ফ্ল্যাট রেট আর হ্রাসমান স্থিতির পার্থক্য
সংক্ষেপে: সুদ দুইভাবে হিসাব হয়। হ্রাসমান স্থিতিতে প্রতি কিস্তির পর যত টাকা বাকি থাকে শুধু তার ওপর সুদ। ফ্ল্যাট রেটে পুরো মেয়াদ ধরে প্রথম দিনের পুরো টাকার ওপর সুদ, তাই একই হার লেখা থাকলেও আসল খরচ প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে। ঋণ নেওয়ার আগে মোট কত টাকা ফেরত দিতে হবে, সেটা লিখিত চেয়ে নিন।
একটা উদাহরণ
৫০,০০০ টাকা ঋণ, এক বছরে ১২টি মাসিক কিস্তিতে, "১২% সুদ"।
| হ্রাসমান স্থিতি | ফ্ল্যাট রেট | |
|---|---|---|
| মাসিক কিস্তি | প্রায় ৪,৪৪২ টাকা | প্রায় ৪,৬৬৭ টাকা |
| মোট সুদ | প্রায় ৩,৩০৯ টাকা | ৬,০০০ টাকা |
| আসল বার্ষিক খরচ | ১২% | প্রায় ২১.৫% |
হিসাবটা শুধু বোঝানোর জন্য, সংখ্যা গোল করা। আমাদের কিস্তি ক্যালকুলেটর-এ নিজের ঋণের অঙ্ক বসিয়ে দুই পদ্ধতির পার্থক্য আর ফ্ল্যাট রেটের আসল হার দেখতে পারেন।
ঋণ নেওয়ার আগে যা জিজ্ঞেস করবেন
- সুদ ফ্ল্যাট রেটে, না হ্রাসমান স্থিতিতে?
- কিস্তি কত, কতগুলো, আর সব মিলিয়ে মোট কত টাকা ফেরত দিতে হবে?
- প্রসেসিং ফি, বিমা বা ফরমের টাকা আলাদা লাগবে কি?
- বাধ্যতামূলক সঞ্চয় রাখতে হবে কি? রাখতে হলে হাতে আসলে কম টাকা পান, তাই খরচ বাড়ে।
- কিস্তি দেরি হলে জরিমানা কত, আর আগে শোধ করলে কোনো চার্জ আছে কি?
কোথা থেকে ঋণ নেবেন
- ব্যাংক আর বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদিত আর্থিক প্রতিষ্ঠান।
- ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান (এনজিও): এদের তদারক করে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ), যারা সর্বোচ্চ সার্ভিস চার্জও বেঁধে দেয়। প্রতিষ্ঠানটি এমআরএর সনদপ্রাপ্ত কি না যাচাই করুন, আর বর্তমান সর্বোচ্চ হার এমআরএর ওয়েবসাইটে দেখুন।
- সমবায় সমিতি: নিবন্ধিত কি না দেখে নিন।
যা এড়িয়ে চলবেন
- মহাজন বা দাদন: সুদের হার অনেক বেশি, আর ফসল বা জমি দিয়ে শোধের শর্তে মানুষ সর্বস্ব হারান।
- অনলাইন ঋণ অ্যাপ: অনুমোদনহীন অনেক অ্যাপ মোবাইলের কন্টাক্ট নিয়ে নেয়, তারপর আত্মীয়স্বজনকে ফোন করে হয়রানি করে। অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান ছাড়া কোনো অ্যাপকে কন্টাক্ট বা ছবির অনুমতি দেবেন না।
- এক ঋণ শোধ করতে আরেক ঋণ: এভাবে ঋণ বাড়তেই থাকে। কিস্তি দিতে না পারলে আগেভাগে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলুন।
নিয়ম হলো, কিস্তির টাকা যেন মাসের প্রয়োজনীয় খরচ মেটানোর পরেও দেওয়া যায়।
কাজের টুল
- কিস্তি ক্যালকুলেটর: কিস্তি, মোট সুদ আর ফ্ল্যাট রেটের আসল হার।
- মাসিক বাজেট: মাস শেষে কত থাকে আর প্রয়োজনীয় খরচে আয়ের কত ভাগ যায়।
সাধারণ তথ্য, আর্থিক পরামর্শ নয়। ফি, সুদ বা মুনাফার হার আর নিয়মকানুন প্রায়ই বদলায় এবং আপনার অবস্থার ওপর নির্ভর করে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ব্যাংক, প্রতিষ্ঠান বা অভিজ্ঞ কারও কাছ থেকে আজকের নিয়ম জেনে নিন।
তথ্যসূত্র
- মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ): অফিশিয়াল ওয়েবসাইট
- বাংলাদেশ ব্যাংক: অফিশিয়াল ওয়েবসাইট
- বাংলাদেশ ব্যাংক: গ্রাহক স্বার্থ সংরক্ষণ কেন্দ্রে অভিযোগের নিয়ম (CIPC)