সঞ্চয়ের উপায়: সঞ্চয়ী হিসাব, ডিপিএস, এফডিআর ও সঞ্চয়পত্র
সংক্ষেপে: অল্প অল্প করে জমাতে চাইলে সঞ্চয়ী হিসাব বা ডিপিএস, একবারে টাকা রাখতে চাইলে এফডিআর বা সরকারের সঞ্চয়পত্র। মেয়াদের আগে ভাঙলে মুনাফা কমে যায়। মুনাফার হার আর নিয়ম প্রায়ই বদলায়, তাই কেনার আগে ব্যাংক বা জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর থেকে আজকের হার জেনে নিন। খুব বেশি মুনাফার প্রতিশ্রুতি দেখলে সাবধান হোন।
সঞ্চয়ী হিসাব
যেকোনো সময় টাকা জমা দেওয়া আর তোলা যায়। মুনাফা কম, কিন্তু বিপদের দিনের তহবিল রাখার জন্য ভালো, কারণ দরকারের সময় সঙ্গে সঙ্গে পাওয়া যায়।
ডিপিএস (মাসিক সঞ্চয় প্রকল্প)
প্রতি মাসে একটা নির্দিষ্ট টাকা জমা দেন, যেমন মাসে ১,০০০ টাকা, তিন, পাঁচ বা দশ বছরের জন্য। মেয়াদ শেষে জমা টাকা আর মুনাফা একসঙ্গে পান। কিস্তি বাদ পড়লে জরিমানা হতে পারে, আর মেয়াদের আগে ভাঙলে মুনাফা কম পাওয়া যায়। আমাদের সঞ্চয় হিসাব টুল দিয়ে আনুমানিক কত জমবে দেখে নিতে পারেন।
এফডিআর (স্থায়ী আমানত)
একবারে একটা অঙ্কের টাকা নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য রাখেন, যেমন তিন মাস, ছয় মাস বা এক বছর। সাধারণত সঞ্চয়ী হিসাবের চেয়ে মুনাফা বেশি। মেয়াদ শেষে অনেক ব্যাংক নিজে থেকেই আবার নতুন মেয়াদে রেখে দেয়, তখনকার হারে।
সঞ্চয়পত্র
সঞ্চয়পত্র সরকারের সঞ্চয় স্কিম, চালায় জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর। পরিবার সঞ্চয়পত্র, পেনশনার সঞ্চয়পত্রসহ কয়েক ধরনের আছে। কারা কিনতে পারবেন, সর্বোচ্চ কত টাকার কেনা যাবে, মুনাফার হার আর কেনার সময় কোন কাগজ লাগবে, এসব নিয়ম সময়ে সময়ে বদলায়। কেনার আগে ব্যাংক, ডাকঘর বা জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর থেকে আজকের নিয়ম জেনে নিন। ডাকঘরের সঞ্চয় ব্যাংকেও টাকা রাখা যায়।
একনজরে
| উপায় | কীভাবে জমান | টাকা তোলা |
|---|---|---|
| সঞ্চয়ী হিসাব | যখন খুশি | যেকোনো সময় |
| ডিপিএস | প্রতি মাসে নির্দিষ্ট টাকা | মেয়াদ শেষে; আগে ভাঙলে মুনাফা কম |
| এফডিআর | একবারে | মেয়াদ শেষে; আগে ভাঙলে মুনাফা কম |
| সঞ্চয়পত্র | একবারে | মেয়াদ শেষে; আগে ভাঙানোর নিয়ম আলাদা |
টাকা কতটা নিরাপদ?
বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদিত ব্যাংকে রাখা আমানত একটা নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত আমানত বিমার আওতায় থাকে। এই সীমা সম্প্রতি বাড়ানোর আইন হয়েছে; আপনার ব্যাংকে জিজ্ঞেস করে সর্বশেষ সীমা জেনে নিন। সঞ্চয়পত্র সরকারের, তাই এর টাকা সরকার ফেরত দেয়।
অতি মুনাফার ফাঁদ
কেউ যদি ব্যাংকের চেয়ে অনেক বেশি মুনাফা, "নিশ্চিত লাভ" বা অল্প দিনে টাকা দ্বিগুণ করার কথা বলে, সেটা প্রায়ই প্রতারণা। অনুমোদন ছাড়া কিছু সমবায়, এমএলএম কোম্পানি আর অনলাইন "বিনিয়োগ" প্রকল্পে মানুষ সারা জীবনের সঞ্চয় হারিয়েছেন। টাকা রাখার আগে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ ব্যাংক বা সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার অনুমোদিত কি না যাচাই করুন। আরও পড়ুন টাকা নিয়ে প্রতারণা।
কাজের টুল
- সঞ্চয় ও ডিপিএস হিসাব: মাসে মাসে জমালে মেয়াদ শেষে আনুমানিক কত হবে।
- মাসিক বাজেট: মাস শেষে কত থাকে আর প্রয়োজনীয় খরচে আয়ের কত ভাগ যায়।
সাধারণ তথ্য, আর্থিক পরামর্শ নয়। ফি, সুদ বা মুনাফার হার আর নিয়মকানুন প্রায়ই বদলায় এবং আপনার অবস্থার ওপর নির্ভর করে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ব্যাংক, প্রতিষ্ঠান বা অভিজ্ঞ কারও কাছ থেকে আজকের নিয়ম জেনে নিন।
তথ্যসূত্র
- বাংলাদেশ ব্যাংক: অফিশিয়াল ওয়েবসাইট
- জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর: অফিশিয়াল ওয়েবসাইট
- বাংলাদেশ ব্যাংক: আর্থিক সাক্ষরতা (Financial Literacy)